কোম্পানি প্রোফাইল

বিকাশ লিমিটেড (বিকাশ) ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত বাংলাদেশের একটি মোবাইল আর্থিক সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) কর্তৃক লাইসেন্স ও অনুমোদনপ্রাপ্ত বিকাশ লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান হিসেবে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেবার আওতায় এবং আওতার বাইরে থাকা উভয় জনগোষ্ঠীকে বিকাশ সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ মোবাইলে লেনদেন সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিকাশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১০ সালে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ এবং মানি ইন মোশন এলএলসি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর যৌথ উদ্যোগে বিকাশ এর যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রায় এপ্রিল, ২০১৩ সালে বিশ্ব ব্যাংক গোষ্ঠীর সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ইক্যুইটি অংশীদার এবং মার্চ, ২০১৪ সালে, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বিনিয়োগকারী হয়। পরবর্তীতে জুন, ২০১৮ সালে বিশ্বের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যান্ট ফাইন্যান্সিয়াল (আলি পে) বিকাশ-এর অন্যতম বিনিয়োগকারী হয়। আর ডিসেম্বর, ২০২১ সালে সফটব্যাংক ভিশন ফান্ড-II ইক্যুইটি অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগ করে যা বাংলাদেশের দ্রুতবর্ধনশীল মোবাইল আর্থিক সেবাখাতে বিকাশ-কে আরও বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। দেশের প্রতিটি প্রান্তের জনগণের জন্য বিস্তৃত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা বিকাশ-এর মূল লক্ষ্য। এদেশের নিম্ন আয়ের জনগণকে সহজ, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরশীল সেবা প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে বিকাশ সবসময় বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বসবাস করে গ্রামীণ অঞ্চলে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পাওয়া রীতিমতো দুঃসাধ্য। কিন্তু এই বিশাল জনগোষ্ঠীরই এই সেবা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, হোক সেটা দূরদেশ থেকে পাঠানো প্রিয়জনের টাকা গ্রহণ কিংবা আর্থিক মাধ্যমগুলো ব্যবহারে আর্থসামাজিক উন্নয়ন।  ১৫ শতাংশেরও কম বাংলাদেশি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং এর সাথে সরাসরিভাবে যুক্ত যেখানে মোবাইল ফোন ব্যাবহারীর সংখ্যা ৬৮ শতাংশেরও বেশি। এই মোবাইলফোন শুধু কথা বলার জন্য নয়, অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে এবং অত্যাধুনিক সেবা প্রদানে সক্ষম। বিকাশ এই মোবাইল ডিভাইস এবং অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের সব অঞ্চলের জনগণের কাছে নিরাপদ উপায়ে সুবিস্তৃত আর্থিক সেবা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশের সকল মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই বিকাশ ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে, বিকাশ শহর ও গ্রামের ৫ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত একাউন্ট এবং ২ লাখেরও বেশি এজেন্ট নিয়ে বৃহত্তম নেটওয়ার্ক তৈরি করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

২০১৭ সালে, ফরচুন ম্যাগাজিনের 'চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০১৭' শিরোনামে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করছে এমন শীর্ষ ৫০টি কোম্পানির বার্ষিক তালিকায় বিকাশ ২৩তম কোম্পানি হিসেবে নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম কর্তৃক পরিচালিত ভোক্তা সমীক্ষায় বিকাশ পরপর তিনবার (২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১) বাংলাদেশের সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে। সেইসাথে এমএফএস ক্যাটাগরিতে টানা চতুর্থবারের মতো বিকাশ দেশের ১ নাম্বার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়।