অ্যান্টার্কটিকা সফল অভিযান শেষে ওয়াসফিয়া দেশে ফিরে এলেন

জানুয়ারি ২২, ২০১৩ ঢাকা, বাংলাদেশ

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বচ্চো শৃঙ্গ ‘ভিনসন ম্যাসিফ’ অভিযান শেষে দেশে ফিরেছেন পৃথিবীর সর্বচ্চো পর্বতশৃঙ্গ ‘এভারেস্ট’ বিজয়ী ওয়াসফিয়া নাজরীন। আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি ২০১৩) বাংলাদেশ সময় ৯ টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে তিনি ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। ব্র্যাকের কর্মকর্তাগণ বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

চলতি বছরের (২০১৩ সাল) ৫ জানুয়ারি তিনি অ্যান্টার্কটিকার সর্বচ্চো শৃঙ্গ ‘ভিনসন ম্যাসিফ’ এ আরোহণ করেন। ওয়াসফিয়া এ দেশের নারী প্রগতির চল্লিশ বছর উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক এই অভিযাত্রা শুরু করেন। এরই মধ্যে তিনি অ্যান্টার্কটিকাসহ চারটি মহাদেশের শীর্ষ পর্বতচূড়া জয় করেছেন। আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াসফিয়া অ্যান্টার্কটিকার সফল অভিযানের অভিজ্ঞতা বিনিময় কালে বলেন, কানাডায় তিন সপ্তাহের ট্রেনিং শেষ করে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অ্যান্টার্কটিকা পৌঁছার পর পাহাড়ে উঠতে আমার আরো ৬ দিন সময় লাগে। এভারেস্ট এর চেয়ে ‘ভিনসন ম্যাসিফ’ এর মূল পার্থক্য পরিবেশ। কারণ মাইনাস ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অ্যান্টার্কটিকায় আরোহণ করতে হয়। এখানে সবকিছুই বরফে ঢাকা।

তিনি বলেন, আমি ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে অনেক গর্বিত। কারণ ব্যাক নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে। আমার বিশ্বাস, নারী ক্ষমতায়নে এটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ দিবে। এতে বাংলাদেশের আরো ১০ জন মেয়ের জীবনে হয়তো পরিবর্তন আসবে।

আজ জার্নালিজম ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (JATRI) মিলনায়তনে আয়জিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি জীশান কিংশুক হক, ব্র্যাকের কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাশিদা পারভিন ও বিকাশ এর হেড অব মার্কেটিং সানিয়া মাহমুদ।

ওয়াসফিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন বলেন, \বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এর মূল কারণ এখানকার নারীদের ক্ষমতায়ন। ওয়াসফিয়া সে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সে (ওয়াসফিয়া) এখন তরুণদের আদর্শে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্র্যেকের সঙ্গে ওয়াসফিয়া সম্পৃক্ত হওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করছি, ‘সেভেন সামিট’ মিশনের জলে ওয়াসফিয়ার কাছ থেকে আমাদের নতুন প্রজন্ম উদবুদ্ধ হবে।

৮ নভেম্বর ২০১২ তারিখে ওয়াসফিয়া নাজরীনের হাতে ‘ভিনসন ম্যাসিফ অভিযান’ –এর জন্য বাংলাদেশের জাতীও পতাকা হস্তান্তর করেছিলেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। আজ মঙ্গলবার সেই জাতীয় পতাকাটি ওয়াসফিয়া ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, ব্র্যাক, বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংক ওয়াসফিয়ার অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের ব্য্যভার বহন করে। ওয়াসফিয়া নাজরীন আগামী এক বছরের জন্য ব্র্যাকের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ওয়াসফিয়া ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর অ্যান্টার্কটিকা ‘ভিনসন ম্যাসিফ’ উপলক্ষে তাঁর যাত্রার কার্যক্রম শুরু করেন। এ মিশনকে ঘিরে একই সালের (২০১২) গত ২৯ নভেম্বর তিনি কানাডায় পৌঁছান এবং তিন সপ্তাহব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে বৈরি আবহাওয়া ও তীব্র শীতের মধ্যেও এ অভিযান চালিয়ে যান। ওয়াসফিয়া নাজরীন ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর চিলি থেকে অ্যান্টার্কটিকা আরোহণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্যাট্রিক মোরো। আজ থেকে ৩০ বছর আগে তিনি সর্বপ্রথম ‘সেভেন সামিট’ জয় করেছিলেন।

ওয়াসফিয়া তাঁর দীর্ঘ অভিযাত্রায় অজস্র প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে সাত মহাদেশের সর্বচ্চো চূড়া আরোহণের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর দৃষ্টান্ত গত চার দশকে নারীর শক্তি, সম্ভাবনা ও বিকাশের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের নারীর গৌরবময় অগ্রগতি হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত হয়ে থাকবে।