১১ বছরের বিকাশ

পোস্ট করেছেন bKash

২৯ নভেম্বর ২০২২ |৭ মিনিটের পাঠ্য

১১ বছরের বিকাশ

এক দশকেরও বেশি সময়ের এই যাত্রায় বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য অর্জন, মাইলফলক আর অতুলনীয় সব গল্পের ভিড়ে – বিকাশ এখন শুধু একটা কোম্পানির নাম না। বিকাশ বর্তমানে তার কর্মীদের জন্য একটি পরিবার, যুগান্তকারী সব উদ্ভাবনের অগ্রপথিক, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার আদর্শ দৃষ্টান্ত, শক্তিশালী পাওয়ারহাউস এবং আরও অনেক কিছু।

১১ বছরে, বিকাশ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে এতটাই গভীর প্রভাব ফেলেছে যে, মানুষ এখন ‘বিকাশ’ শব্দটি বিশেষ্যের পরিবর্তে ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করে। বিকাশ সম্পর্কে কিছু দেখা বা শোনা, এখন দেশজুড়ে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকরা এখন "আমাকে টাকা পাঠাও"-এর পরিবর্তে "বিকাশ করো" বলেন। আমরা শুরু থেকে যেভাবে সবসময় সব প্রয়োজনে মানুষের পাশে আছি, ঠিক তেমনই আজও ক্রমবর্ধমানভাবে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।

বিকাশ-এর যাত্রা একটি ধারনা থেকে শুরু হলেও, উদ্ভাবনকে ভিত্তি করে বিকাশ লেনদেনকে জনমানুষের কাছে আরও বিস্তৃত ও সুবিধাজনক করে তুলেছে। বিকাশ যখন, যেখানেই সমস্যা দেখেছে, তখনই উদ্ভাবনী সমাধানের সুযোগ নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে। সেই ভাবানায়, বিকাশও সরকারের ডিজিটাল ভিশনকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করে। ব্যাংক সেবার বহির্ভূত এবং ব্যাংক সেবার অন্তর্ভুক্ত লাখ লাখ ব্যক্তির কাছে এখন কোনো ঝামেলা ছাড়াই টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করার একটি মাধ্যম রয়েছে। দেশ প্রতিদিন ডিজিটালাইজেশনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে বিকাশ সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে। এটি দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটালাইজেশন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি করে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক পটভূমির লোকদের ক্ষমতায়ন করেছে।

১১ বছর আগে, বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও কামাল কাদির, স্বল্প আয়ের মানুষদের মোবাইল আর্থিক পরিষেবার আওতায় আনার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাদের লেনদেনের পরিমাণ ব্যাংকের দ্বারা পূরণ করার জন্য যুক্তিসঙ্গত নয়। তাই, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থেকে যায়। তিনি সেই দৃশ্যকে পালটাতে আরও উদ্ভাবনী এবং মোবাইল-ভিত্তিক আর্থিক সার্ভিস আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিকাশ এখন অ্যাপ বা ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে নিয়মিত লেনদেন করে এমন লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীকে সেবা দিয়ে থাকে। বিকাশ একটি বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, যেখানে তারা চলমান এটিএম হিসাবে কাজ করে এবং দেশের প্রতিটি কোণায় উপস্থিত রয়েছে। বিকাশ বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে এবং যখনই প্রয়োজন তখন অর্থের সহজলোভ্যটা নিশ্চিত করেছে।

বিকাশ মানুষের জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে এবং ১১ বছর ধরে আর্থিক লেনদেনের জন্য হয়ে উঠেছে এক বিকল্প লাইফলাইন। বিকাশ মানুষের মাঝে কখনই সামাজিক বৈষম্য করে না এবং সার্ভিস দিয়ে থাকে সবার কথা মাথায় রেখে। আর আর্থিক সেবা রয়েছে বিকাশের ডিএনএতে। যা সার্ভিসগুলোর কার্যকরিতার পিছনে একটি প্রভাবশালী দিক। এই কারণেই গ্রাহকদের ফোনগুলো উচ্চমানের বা যতই সাধারণ হোক না কেন, বিকাশ গ্রাহকরা স্মার্টফোন সহ বা ছাড়াই সেবা গ্রহণ করতে পারেন। বৈধ এনআইডি সহ যেকেউ বিকাশ একাউন্টের অধিকারী হলেই, এটি নিশ্চিত করে যে বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন নিরাপদ।


 

প্রতিদিন উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসা বিকাশ-এর অ্যাপ জিনিসগুলোকে আরও সহজ করেছে এবং সময়ের সাথে সাথে গ্রাহকরা একের পর এক সময়োপযোগী সব ফিচার উপভোগ করতে পারছেন। গ্রাহক আর্থিক লেনদেন বিষয়ক সাধারণ কাজ যেমন টাকা পাঠানো এবং গ্রহণ করার বাইরেও মোবাইল রিচার্জ, মার্চেন্ট পেমেন্ট, ক্যাশ আউট, ব্যাংক/কার্ড থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া এবং নেওয়া, দেশজুড়ে বিস্তৃত পরিসরে ইউটিলিটি বিল প্রদান, টাকা ডোনেট করা, সেভিংস স্কিম খোলা, ডিজিটাল ন্যানো লোন নেওয়া এবং আরও অনেক কিছু করা যায় এই বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে। 

সারা দেশে প্রভাব বিস্তার করার সাথে সাথে বিকাশ তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের জীবনেও সমানভাবে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের ১ নাম্বার প্রিয় নিয়োগকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে স্থানীয় প্রতিভাবানদের নিয়োগ করে এবং সফলভাবে ধরে রাখে। এই কোম্পানি কর্মীদের সন্তুষ্টিতে বিশ্বাসী, যা শুধুমাত্র স্বীকৃতি-ভিত্তিক কর্ম সংস্কৃতির কারণে সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে, বিকাশ-এর মার্কেটিং, এইচআর, কমার্শিয়াল, প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, ফিনান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, কমিউনিকেশনস, কাস্টমার সার্ভিস, এক্সটারনাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, ইন্টারনাল কন্ট্রোল, এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লিগাল সহ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। যেখানে কর্মীরা তাদের সম্ভাবনার দুয়ারকে নতুন মাইলফলক দিতে আস্থার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বিকাশ তার কর্মীদের কর্মজীবনকে আরও বিকশিত করতে উৎসাহ দিয়ে থাকে, যেন কর্মীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্পূর্ণ নিষ্ঠা এবং শতভাগ কর্মদক্ষতা সাথে কাজ করতে পারেন।

বিগত ১১ বছরে, বিকাশ অসংখ্য স্বপ্নপূরণ এবং অর্জনের কারিগর। সবার ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম, সাফল্য এবং আরও অনেক কিছু নিয়েই এই এক দশকের বেশি সময়ের বিকাশ। দেশের মানুষ এবং সবার আকাঙ্ক্ষাগুলোই বিকাশ-এর এগিয়ে যাওয়ার শক্তি এবং তা পূরণ করার লক্ষ্য নিয়েই বিকাশ আজীবন দেশ ও মানুষের সেবা করে যেতে চায়। চলে গেছে ১১ বছর, বিকাশ মানুষের সামনে নিয়ে আসতে চায় আরও অনেককিছু। বিগত বছরগুলোর সাফল্য, ব্যর্থতা, অর্জন, হতাশা এবং শিক্ষাগুলোকে সাথে নিয়েই আমরা আমাদের আগামীর অভিযান শুরু করতে চাই।

আর্টিকেল শেয়ার করুন

  • লিংক কপি করুন Copy Link
  • Facebook share
  • Linkedin share

সর্বশেষ আর্টিকেলসমূহ

বিস্তারিত জানুন
বিকাশের মাধ্যমে মজুরি পাবেন আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের কারুশিল্পীরা
বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ার বিজয়ীরা পুরস্কার পেলো বিকাশে
'বেস্ট সিএসআর ইন এডুকেশন' অ্যাওয়ার্ড পেলো বিকাশ
সার্ভিসেস
হেল্প